Your Cart
:
Qty:
Qty:
Sub Total
Tk
খেজুরের উপকারিতা

সুস্থ আর সুন্দর শরীর সবার কাম্য। আর নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে নিয়মিত তা আমরা সবাই জানি।
আপনি যদি এমন কোনো খাবার খুঁজে থাকেন যা আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে পুষ্টির যোগান দেবার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রন রাখতে সাহায্য করবে তাহলে খেজুর হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ খাবার।
সুপার ফুড খ্যাত খেজুরে আছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, বোরন, ফ্লুরিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
খেজুর একটি সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর ফল, যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়। আমাদের দেশে খেজুরের চাহিদা বিশেষভাবে শীতকালীন মৌসুমে বেড়ে যায়।
ইংরেজিতে খেজুরকে “ Date” ফল বলা হয়। আর আরবিতে খেজুরকে “তুমুর” বলে। খেজুর গাছ বেশি জন্মায় মরু অঞ্চলে। এটি একটি পাম গাছীয় ফল। সারা বিশ্বে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির খেজুর আছে।
সৌদি আরবের খেজুর জগৎ বিখ্যাত। সৌদি আরবে নানান জাতের খেজুর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি খেজুরের নাম হলো - আজওয়া, মারিয়াম, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, খালাস, মুসকানি, শালাবি,সেফরি, ডেইরি ইত্যাদি।
খেজুর শুধু খেতে মিষ্টি নয় বরং এর রয়েছে নানান পুষ্টিগুণ। পুষ্টিগুণে ভরা খেজুরের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা।
চলুন জেনে নেয়া যাক খেজুর খাওয়ার কিছু উপকারিতা :
👉 হৃদযন্ত্র ভালো রাখে :
খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যা হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। খেজুর খেলে ধমনি পরিষ্কার থাকে। রক্ত চলাচলে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় না। ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
👉 চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় :
খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য খুব ভালো। ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়াকে সতেজ করে। এছাড়া খেজুরে থাকা লুটেনিন ও জেক্সানথিন চোখকে সুরক্ষিত রাখে।
👉 রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ :
খেজুরে আয়রন থাকার কারণে এটি রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সহায়ক।
👉 হজম শক্তি বৃদ্ধি :
এর মধ্যে থাকা ফাইবার পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
👉 যকৃত ভালো রাখে :
খেজুরে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান যকৃতকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
👉 অ্যালজাইমার রোগের ঝুঁকি কমায় :
খেজুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। নিয়মিত খেজুর খেলে স্মৃতি শক্তি ভালো থাকে এবং অ্যালজাইমার রোগের ঝুঁকি কমায়।
👉 হাড় মজবুত করে :
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে এবং অস্টিওপোরোসিস রোগের ঝুঁকি কমায়।
👉 পুষ্টির ঘাটতি পূরন করে :
খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি যা স্বাস্থ্যের কোন রকম ক্ষতি করে না। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রোটিন, প্রচুর ভিটামিন, ফাইবার এবং খনিজ পদার্থ। এ সকল উপাদান দেহে পুষ্টির ঘাটতি পূরন করতে সাহায্য করে।
👉 হাঁটুর ব্যথা দূর করে :
আমাদের মধ্যে যারা হাঁটুর ব্যাথায় ভুগে থাকেন তারা হাঁটুর ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন।
👉 ওজন কমাতে সাহায্য করে :
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং পেট ভরার অনুভূতি দেয়। ফলে যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা ডায়েট চার্টে খেজুর রাখতে পারেন।
👉 গর্ভবতী মা ও সন্তানের জন্য উপকারী :
খেজুর গর্ভবতী মা ও সন্তানের জন্য অনেক উপকারী। খেজুরে বিদ্যমান আয়রন গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিদ্যমান ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ গর্ভবতী নারী এবং জন্মগত সন্তানকে নানান রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
👉 ত্বক সুন্দর রাখে :
নিয়মিত খেজুর খেলে ত্বক টান টান হয়। এছাড়া খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন বি৫, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মতো উপাদান, যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে ব্রনের সমস্যা হতে দূরে রাখে।
খেজুর এমন একটি ফল যা আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করবে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় খেজুর রাখুন